"আল্লাহর কসম" একাধিকবার বলে কোনো কাজ করা বা না করার কথা একবার বললে কয়টি কসম হবে?
প্রশ্নঃ ১৭১৫৭৯. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, , আমি একবার একটা বিষয়ে আল্লাহর কসম কেটে আবার সেই কাজটা করেছি। এরপর সেই কাজ যেন না করি সেই জন্য ৪-৫ বার এক সাথে আল্লাহর কসম আল্লাহর কসম এইভাবে রিপিট করে কসম কাটি। এরপর সেই কাজটা সরাসরি না করলেও ইন্ডিরেক্টলি করেছি। এখন আমাকে কতবার কাফফারা দিয়ে কয়টা রোজা রাখতে হবে।
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
বারবার কসম উচ্চারনে ক্ষেত্রে মূলনীতি:
কোনো ব্যক্তি কোনো কাজ করা বা না করার বিষয়ে আল্লাহর কসম করার ক্ষেত্রে একই বিষয়ে ‘আল্লাহর কসম’ ‘আল্লাহর কসম’ ‘আল্লাহর কসম’ এভাবে একাধিকবার শব্দ উচ্চারণ করলে, যতবার কসমের শব্দ উল্লেখ করা হবে, ততবারই পৃথক কসম হিসেবে গণ্য হবে; যদিও কাজ করা বা না করার কথা একবারই উল্লেখ করা হয়।
সুতরাং, আপনি যদি আপনার কসম ভঙ্গ করে থাকেন, তাহলে উক্ত কসমের কাফফারা আদায় করতে হবে। যেহেতু আপনি একই বিষয়ে একাধিকবার কসম করেছেন, তাই আপনার কসমগুলো পৃথক কসম হিসেবে গণ্য হবে। এবং কসম ভঙ্গের জন্য কাফফারা আদায় করতে হবে।
একাধিক কসমের কাফফারা আদায়ের পদ্ধতি নিম্নে রেফারেন্সেও দেওয়া হলো,
https://muslimbangla.com/masail/20666 একাধিক-কসমের-কাফফারা
উল্লেখ্য, আপনি কাজটি সরাসরি না করে পরোক্ষভাবে করেছেন বলে উল্লেখ করেছেন। সুতরাং, কীভাবে বা কোন পদ্ধতিতে কাজটি পরোক্ষভাবে করেছেন, তা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করে আর স্পষ্টভাবে মাসআলা জেনে নিতে হবে। কারণ, কাজটি আপনার কসমের আওতাভুক্ত হয়েছে কি না, তার ওপর কসম ভঙ্গের হুকুম নির্ভর করবে।
الأدلة الشرعية
(البحرالرائق: 10\269)
والتعدد إذا تكرر حرف النفي أو القسم ، ولا فرق في تكرار القسم بين تكرار المقسم عليه أو لا ، حتى لو قال : والله والله لا أفعل كذا، فهو يمينان في ظاهر الرواية ، كقوله : والله لا أفعل كذا والله لا أفعل كذا ۔
(فتاویٰ شامی: 3/714)
وفي البغية كفارات الأيمان إذا كثرت تداخلت ويخرج بالكفارة الواحدة عن عهدة الجميع، وقال شهاب الأئمة: هذا قول محمد، قال صاحب الأصل : هو المختار عندي اھ مقدسي ومثله في القهستاني عن المنية ۔
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুফতী ও মুহাদ্দিস, দারুল কুরআন আল ইসলামিয়া মাদ্রাসা
মুহাম্মদপুর, ঢাকা
রেফারেন্স উত্তর :
প্রশ্নঃ ২০৬৬৬. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, শায়েখ জিবনে অনেক কসম করেচি, যেমন কসম করে বলছি “আমি এই কাজটি করবো, পরে সেই কাজটি করতে পারিনি, এখন আমার করনিও কি? কসমের কাফফারা কি ভাবে দিবো?
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
একাধিক কসমের কাফফারা বিষয়ে দু’টি ফুক্বাহায়ে কেরাম থেকে দু’টি মত পাওয়া যায়। যথা-
১-প্রতিটি কসম ভঙ্গের জন্য একটি করে কাফফারা আদায় করা।
২-আগের কসমের কাফফারা আদায় না করে থাকলে একটি কাফফারাই যথেষ্ট হবে।
আপনি যদি সক্ষম হয়ে থাকেন, তাহলে অনুমান করে যতটি কসম ভঙ্গ করেছেন ততটি কাফফারা আদায় করে দিন। এটাই উত্তম ও অধিক সতর্কতা এতেই নিহিত রয়েছে।
আর যদি অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে থাকেন, তাহলে একটি কাফফারা আদায় করা যেতে পারে।
আর কসমের কাফফারা হলোঃ-
দশজন মিসকিনকে দুই বেলা খাবার দিবে, অথবা তাদেরকে পরিধেয় বস্ত্র দান করা, অথবা একজন মুমিন গোলামকে মুক্ত করা, যদি এর কোনোটার সামর্থ্য না থাকে, তাহলে তিন দিন রোজা রাখবে।
(قَوْلُهُ وَتَتَعَدَّدُ الْكَفَّارَةُ لِتَعَدُّدِ الْيَمِينِ) وَفِي الْبُغْيَةِ: كَفَّارَاتُ الْأَيْمَانِ إذَا كَثُرَتْ تَدَاخَلَتْ، وَيَخْرُجُ بِالْكَفَّارَةِ الْوَاحِدَةِ عَنْ عُهْدَةِ الْجَمِيعِ. وَقَالَ شِهَابُ الْأَئِمَّةِ: هَذَا قَوْلُ مُحَمَّدٍ. قَالَ صَاحِبُ الْأَصْلِ: هُوَ الْمُخْتَارُ عِنْدِي. اهـ. مَقْدِسِيٌّ، وَمِثْلُهُ فِي الْقُهُسْتَانِيُّ عَنْ الْمُنْيَةِ (رد المحتار، كتاب الايمان، مطلب تتعدد الكفارة لتعدد اليمين-3/714)
وفى التحرير المختار للرافعى: (قوله: قال صاحب الأصل: هو المختار عندى) لا يخفى أن كلا من البغية والمنية للزاهدى، ومعلوم أن ما انفرد به لا يعول عليه، فلا يعتمد على القول بالتداخل، بل يعتمد على ما ذكره غيره من عدم التداخل حتى يوجد تصحيح لخلافه ممن يعتمد عليه فى نقله، ومما يدل لتعددها ما ذكره فى التتح أول الحدود أن كفارة الإفطار المغلب فيها جهة العقوبة حتى تداخلت، وأن كفارة الأيمان فيها جهة العبادة، وفى الهندية: إذا قال الرجل “والله الرحمن لا أفعل كذا” كانا يمينين حتى إذا حنث كان عليه كفارتان فى ظاهر الرواية، فعلم ان تعدد الكفارة هو ظاهر الرواية، (التحرير المختار-3/13)
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
শাইখ আবু সাঈদ ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, মোহাম্মাদপুর।
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন